এমরাজিনা ইসলাম খান

এমরাজিনা ইসলাম খান

এমরাজিনা ইসলাম খান

২০১৩ সালের আউটসোর্সিং এ বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) পুরস্কার পাওয়া নারী ফ্রীলান্সার এমরাজিনা ইসলাম খান।
.
আজ আমরা জানবো এই সফল নারী ফ্রীলান্সার এবং নারী উদ্যোক্তার কথা ।
ঢাকার বিএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন ২০০২ ও ২০০৪ সালে। এরপর পরিবারের ইচ্ছাতেই পড়তে হয়েছে ইংরেজি সাহিত্যে। ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক পড়ার পাশাপাশি শিখেছেন ছবি আঁকাও।দেশের বাড়ি নীলফামারীতে, তবে পড়াশোনাটা ঢাকাতেই।

২০১০ সাল থেকে নিয়মিত ফ্রিল্যান্সিং করে যাচ্ছেন ঢাকার এমরাজিনা খান। ইল্যান্স ও ওডেস্কে গ্রাফিকস ডিজাইনের কাজ করেন তিনি। এক বন্ধুর কাছ থেকে প্রথম ফ্রিল্যান্সিংয়ের বিষয়টি জানেন এমরাজিনা। পরবর্তী সময়ে নিজেই যুক্ত হয়ে যান ফ্রিল্যান্সিংয়ে। এমারিজনা বিয়ে করেছেন বাংলাদেশে ওডেস্ক–ইল্যান্সের কান্ট্রি ম্যানেজার সাইদুর মামুন খানকে। বিয়ের পর স্বামী এবং পরিবারের উৎসাহে ফ্রিল্যান্সিংকেই এখন ধ্যান-জ্ঞান হিসেবে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
.
এমরাজিনা বলেন, ‘আঁকাজোকা ও সৃজনশীল কাজ করা যাবে বলে আগ্রহ নিয়ে শুরু করি ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ। ২০১০ সালের শেষের দিকে আউটসোর্সিংয়ের কাজ দেওয়া–নেওয়ার ওয়েবসাইট ওডেস্কে অ্যাকাউন্ট খুলি। মাস তিনেকের মধ্যে পেলাম প্রথম একটি কাজ। ২৫ ডলারের চুক্তিতে একটি লোগো তৈরি করে দিতে রাজি হলাম। কাজটি শেষ করে জমা দিলাম। কিন্তু দেখলাম, আমার অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে ৭৫ ডলার। পরে জানলাম গ্রাহক কাজ দেখে খুশি হয়ে ৭৫ ডলার দিয়েছেন। উৎসাহ বেড়ে গেল। ভাবলাম, তাহলে আমাকে দিয়ে হবে।’
.
এর পর থেকে অনেক কাজ আসতে থাকল। লোগো তৈরি, ওয়েবসাইট ডিজাইন, বিভিন্ন ধরনের টি-শার্ট বা খেলার সরঞ্জামের নকশা করা, লিফলেট, অলংকরণ, বিজ্ঞাপন, ব্যানারসহ নানা ধরনের কাজ। নিজের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এমরাজিনা ২০১৩ সালে বেসিস ফ্রিল্যান্সিং পুরস্কার পান নারী বিভাগে। বর্তমানে তিনি ওডেস্ক–ইল্যান্সে নিয়মিত কাজ করছেন। ইল্যান্সের প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে করছেন একটা বড় ওয়েবসাইট তৈরির কাজ।
.
রাজধানীর ধানমন্ডিতে খুলেছেন ক্রিয়েটিভ কিটেনস নামে নিজের অফিসে। শুধু নিজেই আউটসোর্সিংয়ের কাজ করছেন না, অন্য নারীদেরও শেখাচ্ছেন এ বিষয়ে।এমরাজিনা ইসলাম খান বলেন, ‘মোট ছয়জন (নিজেসহ) নারীকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ক্রিয়েটিভ কিটেনস। একসময় সেটা বাড়িয়ে ৬০০ নারীর কর্মস্থান করতে চাই। নিজের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং পেশার বিকাশ ঘটাতে চাই দেশজুড়ে।’
এমরাজিনা বলেন, ‘নারীদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং দারুণ একটি কাজ। এতে করে ঘরে বসে যেমন কাজ করা যাবে, তেমনি সংসারও সামলানো যাবে। স্বপ্ন দেখি আরও অনেক নারীকে এর সঙ্গে যুক্ত করার। সুত্রঃ বাংলাদেশ ওমেন ফ্রিল্যান্সার অ্যাসোসিয়েশন